বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
১৮নং পটলডাঙা স্ট্রিট, চ্যাটার্জীদের রোয়াক। চারমূর্তি উপস্থিত। সভা শুরু হল উদ্বোধনী সংগীত দিয়ে
" আমরা চারমূর্তি মনে খুব ফূর্তি , আমরা পটলডাঙার , টেনিদার বুদ্ধি যেন মুখশুদ্ধি সাবাস লিডার।চারজন আমরা দিই নাতো বাগড়া মানুষের ভালো কাজে , পটলডাঙার নাম ছড়াবই ছড়াব এই কলকাতাতে "।
টেনিদা- উদ্বোধনী সংগীত শেষ এবার আজকে আমাদের আলোচনা শুরু হোক।
ক্যাবলা - আজকের আলোচনার বিষয় কি টেনিদা?
(আলুর চপে একটা কামড় দিয়ে টেনিদা বলল)
টেনিদা- জানিস আমি আজকে খুব খুশি ।
প্যালা - তা খুশি হওয়ার কারনটা কি শুনি।
টেনিদা - আমি আমার যোগ্য শিষ্য পেয়ে গেছি।
হাবুল - কও কি টেনিদা ? তুমার যোগ্য শিষ্য পাইয়্যা গ্যাছো ! কেডা সে ? ক্লাস টেনে কয়বার ফ্যাল করসে সে?
টেনিদা -( চপে শেষ কামড় দিয়ে ঠোঙাটা ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে বলল) শোন্ পরীক্ষায় ফেল করেনি সে , যাকে কি না বলে সে খুব ইয়ে মানে ওই ওই ব্রিলিয়ান্ট ।
প্যালা -( ফিসফিস করে ক্যাবলা আর হাবুলের কানে কানে বলল) টেনিদা কিসব বলছে রে , টেনিদার শিষ্য কি না ব্রিলিয়ান্ট!
টেনিদা একটা বাঘা ধমক দিয়ে বলল "অ্যাই অ্যাই প্যালা আমার নামে কি বলছিস রে "
ক্যাবলা - ও কিছু না তুমি তোমার শিষ্যর নামটা বলো টেনিদা।
টেনিদা - হু তোরা আমাকে সম্মান করিসনা , তারজন্যই তো আমার যোগ্য শিষ্য হতে পারলি না । যাই হোক আমার শিষ্যর নামটা বলি শোন তার নাম হল " মহনদীপ জানকর" ।
ক্যাবলা - "কি ভাবে তোমার শিষ্যর খোঁজ পেলে বলো ।
টেনিদা - শুনবি ? তাহলে আগে আলুকাবলি খাওয়া তারপর বলছি।
ক্যাবলা - হ্যাঁ , নিশ্চই যা তো প্যালা চট্ করে টেনিদার জন্য আলুকাবলি নিয়ে আয় ।
প্যালা - আমি ?
হাবুল - হ , তুই , দৌড়াইয়া যা , নয়তো টেনিদা গুল মানে হইল গিয়া গল্প শেষ করবো না । যা যা ।
আলুকাবলি খাওয়ার পর টেনিদা বলতে শুরু করলো .........আলুকাবলি খেয়ে টেনিদা বলতে শুরু করল,
টেনিদা - তোরা তো জানিস আমি মাঝেমধ্যে একটু আধটু রং চড়িয়ে গল্প বলি , সেটা অবশ্য তোদের মজা দেওয়ার জন্য। তো সেদিন হয়েছে কি দুপুরবেলা খেতে বসে খবর শুনব বলে টি.ভি টা চালিয়েছি । খবরে দেখলাম একজন যুবনেতা নাম মহনদীপ জানকর ,বলছে যে সে না কি চারমাসে ১৫০০ বই পড়েছে
এরমধ্যে ক্যাবলা ফোঁড়ন কেটে বলল
ক্যাবলা - এই খবরটা আমিও শুনেছি । তবে টেনিদা তোমার কিন্তু একটু ভূল হলো উনি কিন্তু পরে বলেছেন যে উনি ১৫০০ বই উপহার পেয়েছে ।
টেনিদা - হুম বলেছে তো , কোন্ সময়ে কি বললে ব্যাপারটা সামাল দেওয়া যাবে এটা জানে বলেই তো ওকে আমার শিষ্য বানাবো । তোরা তো এখনও ঢপ দিতে শিখলিনা। আমার সাথে এতদিন থাকার সত্ত্বেও যে কি করলি কে জানে ।( টেনিদার গলায় আক্ষেপের সুর) সে যাক গে যেটা বলছি শোন কাল আমি যাচ্ছি ৩২ ঘন্টার অফিসে তোরাও যাবি আমার সাথে ওখানে গিয়ে মহনের ঠিকানাটা জোগা.... কথা শেষ হওয়ার আগেই একটা বাঘা গলায় ডাক শোনা গেল "টেনি"
সবাই পেছন ফিরে দেখল দাড়িয়ে আছেন ঘনাদা । ঘনাদাকে দেখে টেনিদা একগাল হেসে বলল
টেনিদা - আরে ঘনাদা যে , আসুন আসুন কি সৌভাগ্য ,কতদিন পর দেখা বসুন বসুন। বলুন হঠাৎ কি মনে করে গুরুভাইয়ের কাছে?
ঘনাদা - শুনলাম তুমি না কি মোহনদীপকে নিজের শিষ্য করবে বলে ঠিক করেছো
টেনিদা - ঠিকই শুনেছেন । খুব শিগগিরি ওর বাড়ি যাবো । আপনিও চলুন না আমাদের সাথে ।
ঘনাদা - যাব তবে ওকে শিষ্য বানাতে ।
টেনিদা - আপনার শিষ্য মানে ?
ঘনাদা - হ্যাঁ আমার শিষ্য । আমি ঠিক করেছি মোহনকে আমার শিষ্য বানাবো , আমরা একসাথেই যাবো কাল। কখন যাবে আর কোথায় দাড়াবে বোলো।
টেনিদা - আপনার এই কথাটা আমি রাখতে পারছিনা ঘনাদা , আমার শিষ্য হবে মোহন ব্যাস।
ঘনাদা - আমি তোমার থেকে বড়ো তুমি আমার মুখে মুখে তর্ক করবেনা টেনি।
টেনিদা - সে আপনি বড়ো হতে পারেন তাই বলে advantage নেবেন তা হতে পারেনা ।
( এইভাবে বাকবিতন্ডা চলতে থাকে এই সময় আরেকজনের গলার আওয়াজ শোনা গেল । গলার আওয়াজে টেনিদা ঘনাদার তর্কযুদ্ধ থেমে গেল । দুজনেই সমস্বরে বলে উঠল গুরুদেব "বিরিঞ্চিবাবা "! )
[চলবে ...]
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now